নেত্রকোনার কলমাকান্দায় আব্দুল মজিদ অন্যের ওপর দোষ চাপাতে প্রাক্তন স্ত্রীকে হত্যার পর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। রোববার (২৩ জুলাই) সকালে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় পুলিশ। হত্যার শিকার আম্বিয়া খাতুন (৪০) উপজেলার একই ইউনিয়নের উত্তর গোঁড়াগাও গ্রামের মো. নূরুল ইসলামের মেয়ে। হত্যার অভিযোগে গ্রেফতারকৃত আব্দুল মজিদ (৪৫) লেংগুরা ইউনিয়নের গৌরিপুর গ্রামের আবুল কাসেম ওরফে খোকা মিয়ার ছেলে। এরআগে শনিবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাতে উপজেলার লেংগুরা ইউনিয়নের গৌরিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসীর তথ্য মতে জানা যায়, নিহত আম্বিয়া খাতুনের প্রথম বিয়ে হয়েছিল আব্দুল মজিদের বড় ভাই হাবিবুর রহমানের সাথে। তাদের সংসারে ৩ ছেলে রয়েছে। ৩ বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় হাবিবুর রহমানের মৃত্যু হয়। পরে তার দেবর আব্দুল মজিদের সাথে বিয়ে হয় আম্বিয়ার। এরপর আগের স্বামী হাবিবুর রহমানের ঘরে ৩ ছেলেসহ বসবাস করতে থাকে আম্বিয়া। এদিকে আব্দুল মজিদ বখাটে ও নেশাগ্রস্ত থাকায় প্রায়ই স্ত্রীকে নানা ধরনের অত্যাচার ও মারধর করতো। অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আম্বিয়া তার ২ ছেলেকে সাথে নিয়ে ঢাকা চলে যায়। ঢাকা গিয়ে সে মানুষের বাসা বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ শুরু করে। বড় ২ ছেলেও তার সাথে ঢাকা গিয়ে কাজ শুরু করে এবং ছোট ছেলেকে ময়মনসিংহে একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করে পড়াশোনা চালিয়ে যায়। মজিদের অত্যাচার বেড়ে যাওয়ায় একপর্যায়ে অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে কয়েক মাস আগে আব্দুল মজিদকে ডিভোর্স দেন আম্বিয়া।
এলাকাবাসী আরও জানায়, শুক্রবার (২১ জুলাই) বাড়ি ফিরে আম্বিয়া। সুযোগ বুঝে রাতে বাসায় গিয়ে কুপিয়ে ও মাথায় আঘাত করে আম্বিয়াকে হত্যা করে মজিদ। হত্যার দায় অন্যের ওপর চাপাতে ভোরে থানায় গিয়ে জানায়, তার প্রাক্তন স্ত্রীকে হত্যা করেছে প্রতিবেশী এক ব্যক্তি। পুলিশ মজিদের কৌশল বুঝতে পেরে তাকে থানায় বসিয়ে রেখে লাশ উদ্ধারে যায়। এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়ে পরে মজিদকে গ্রেফতার করে।
আম্বিয়া খাতুনের বড় ভাই সাইফুল ইসলাম জানান, আব্দুল মজিদ নেশাগ্রস্ত ও বখাটে ছিলো। সড়ক দুর্ঘটনায় আমার বোনের প্রথম স্বামী নিহত হওয়ার পর মজিদের কাছে বিয়ে দিতে আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে না করেছি। এমনকি আমার বোনও মজিদকে বিয়ে করতে চায়নি। প্রাণনাশের হুমকিসহ নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে বিয়েতে বাধ্য করে মজিদ। বিয়ের পর থেকে আম্বিয়ার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিল মজিদ।
তিনি আরও জানান, এ নিয়ে সামাজিকভাবে স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা শালিস করে দেন। একপর্যায়ে আম্বিয়া বাঁচার জন্য ৩ মাস আগে সামাজিক শালিসে উপস্থিত স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সামনে আব্দুল মজিদকে তালাক দেয়। এর জন্য আমাকে প্রাণে মারার হুমকি দিয়েছিলো মজিদ। এখন আমার বোনকে নির্মমভাবে খুন করেছে মজিদসহ তার পরিবারের লোকজন। আমরা এই নির্মম হত্যাকান্ডের বিচার চাই।
নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) মো. লুৎফুর রহমান রোববার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আম্বিয়ার লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তার প্রাক্তন স্বামী আব্দুল মজিদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখনো থানায় মামলা হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
গোপনীয়তা নীতি | এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।